দেড় থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা ও রুটিন

দেড় থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা ও রুটিন (2 bochorer bachar khabar talika): পরিবারের খাবার, দিনে কতবার, কতটুকু, আর বুকের দুধ চালু রাখা। WHO ও UNICEF অনুযায়ী।

এক নজরে

  • দেড় থেকে ২ বছরে বাচ্চা পরিবারের খাবারই খেতে পারে; দিনে ৩–৪ বার খাবার, প্রতিবার পৌনে এক কাপ থেকে এক কাপ, আর মাঝে ১–২ বার নাশতা।
  • WHO বলছে, বুকের দুধ ২ বছর বা তার বেশি সময় চালিয়ে যান; এই বয়সে আগে অন্য খাবার, পরে বুকের দুধ।
  • প্রতিদিন ডিম, মাছ, মাংস বা দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, আর কমলা বা সবুজ রঙের ফল ও সবজি দিন; খাবারে চিনি দেবেন না।
  • জাঙ্ক ফুড আর কোমল পানীয় নয়; জোর না করে ধৈর্য ধরে খাওয়ান।
  • বাচ্চা কিছু পান করতে বা বুকের দুধ টানতে না পারলে, সব বমি করলে, খিঁচুনি হলে বা খুব নিস্তেজ বা অচেতন হলে এখনই হাসপাতালে যান; দেখুন জরুরি অবস্থা পাতা।

দেড় থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা (অনেকে যেটা খোঁজেন “2 bochorer bachar khabar talika” লিখে) আলাদা করে বানাতে হয় না। UNICEF বলছে, ১ বছর বয়সে বাচ্চা প্রায় বড়দের মতোই চিবাতে পারে, তাই পরিবারের সবাই যা খায়, বাচ্চাও তা-ই খেতে পারে। এখন অন্য খাবারই বাচ্চার শক্তি আর পুষ্টির প্রধান উৎস, তবে বুকের দুধও এখনো জরুরি পুষ্টি আর অসুখ থেকে সুরক্ষা দেয়। নিচের তালিকা ও রুটিন WHO ও UNICEF-এর পরামর্শ থেকে সাজানো।

কতবার, কতটুকু

UNICEF ও WHO-র শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশিকা (IMCI) ১২ মাস থেকে ২ বছর বয়সের জন্য বলছে:

  • কতবার: দিনে ৩–৪ বার খাবার, আর মাঝে ১–২ বার নাশতা।
  • কতটুকু: প্রতিবার পৌনে এক কাপ থেকে এক কাপ (এক কাপ = ২৫০ মিলিলিটার)। IMCI প্রতিবার পৌনে এক কাপের কথা বলে।
  • কেমন খাবার: নানা রকম পারিবারিক খাবার, মিহি করে কেটে বা চটকে; তাতে প্রাণিজ খাবার আর ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ ফল ও সবজি।
  • বুকের দুধ: বাচ্চা যতবার চায়। WHO বলছে, বুকের দুধ ২ বছর বা তার বেশি সময় চালিয়ে যান। UNICEF বলছে, এই বয়সে আগে অন্য খাবার দিন, তারপর খিদে থাকলে বুকের দুধ।

বাচ্চা বুকের দুধ না খেলে তাকে আরও বেশিবার খাওয়াতে হয়। UNICEF অনুযায়ী তখন দিনে ৪–৫ বার খাবার, সঙ্গে ২ বার নাশতা, আর দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার তার খাদ্যের খুব জরুরি অংশ। কোন দুধ দেবেন, দেখুন: বাচ্চাকে গরুর দুধ কখন থেকে।

দেড় থেকে ২ বছরের দৈনিক রুটিন (নমুনা)

নিচের রুটিনটি UNICEF ও IMCI-র বেলা আর পরিমাণের হিসাব দিয়ে বানানো একটি নমুনা। সময় নিজের বাড়ির মতো করে নিন, আর পরিমাণ বাচ্চার খিদে বুঝে ঠিক করুন।

কখনকী দেবেনকতটুকু
সকালেখিচুড়ি বা রুটি, সঙ্গে ডিম আর সবজিপৌনে এক থেকে এক কাপ
দুপুরের আগেতাজা ফলনাশতা
দুপুরেভাত, ঘন ডাল, সবজি আর মাছ বা মাংস, মিহি করেপৌনে এক থেকে এক কাপ
বিকেলেতাজা ফল বা অন্য স্বাস্থ্যকর নাশতানাশতা
রাতেপরিবারের রাতের খাবার থেকে ভাত, সবজি আর মাছ বা মাংসপৌনে এক থেকে এক কাপ
খাবারের পরে, দিন-রাতবুকের দুধবাচ্চা যতবার চায়

কোন খাবার দেবেন

UNICEF ও WHO-র ২০২৩ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিদিনের খাবারে থাকুক:

  • প্রাণিজ খাবার প্রতিদিন: দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, মাছ, মাংস বা মুরগি। ভালো করে রান্না করে মিহি করে কেটে বা চটকে দিন; UNICEF বলছে, দাঁত না উঠলেও বাচ্চা এভাবে খেতে পারে।
  • ডাল বা বাদাম প্রতিদিন: ছোলা, ডাল, মটর; বাদাম দিলে গুঁড়া বা পিষে, যাতে গলায় না আটকায়।
  • ফল ও সবজি প্রতিদিন: বিশেষ করে কমলা বা সবুজ রঙের।
  • অল্প তেল বা চর্বি: শক্তির জন্য।
  • স্বাস্থ্যকর নাশতা: যেমন তাজা ফল।

যা দেবেন না

  • জাঙ্ক ফুড ও কোমল পানীয়: UNICEF বলছে, চিপস, বিস্কুট, কেক, সোডা, ক্যান্ডির মতো কারখানায় বানানো নাশতায় অনেক চিনি, লবণ, চর্বি থাকে, আর এগুলো পেটে সেই জায়গা নেয় যা পুষ্টিকর খাবারের জন্য দরকার।
  • চিনি: বাচ্চার খাবারে চিনি দেবেন না; চিনি বা চিনির বিকল্প মিষ্টিও নয় (UNICEF, WHO)।
  • মিষ্টি পানীয়: WHO বলছে, দেবেন না; ফলের রস (জুস) দিলেও সীমিত রাখুন।

খাওয়ার সময়

  • বাচ্চার জন্য আলাদা বাটি দিন; UNICEF বলছে, এতে সে নিজে খেতে শেখে। শুরুতে ধীরে আর এলোমেলো খাবে, মুখে খাবার তুলতে সাহায্য করুন।
  • বাচ্চার সামনে বসুন, চোখে চোখ রাখুন, হাসুন, কথা বলুন আর খেলে প্রশংসা করুন।
  • IMCI বলছে, ধীরে, ধৈর্য ধরে খাওয়ান; উৎসাহ দিন, কিন্তু জোর করবেন না।
  • খাবার বানানোর আগে আর খাওয়ানোর আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। মাটিতে খেলার পর বাচ্চার হাতও ধুয়ে দিন; এতে কৃমিও ঠেকে: বাচ্চার পেটে কৃমি।
  • বাচ্চা ঠিকমতো খেতে না চাইলে, ওজন না বাড়লে বা খুব রোগা দেখালে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারকে দেখান।

আগের ধাপ দেখুন: ৯–১১ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা।

কখন দেরি না করে হাসপাতালে যাবেন

WHO-র IMCI নির্দেশিকা অনুযায়ী ২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সে নিচের যেকোনো একটি সাধারণ বিপদ চিহ্ন থাকলে এখনই হাসপাতালে নিন:

  • শিশু কিছু পান করতে পারছে না, বা বুকের দুধ টানতে পারছে না।
  • যা খায় বা পান করে, সব বমি করে ফেলে দিচ্ছে।
  • খিঁচুনি হচ্ছে, বা হয়েছে।
  • শিশু খুব নিস্তেজ, বা অচেতন।

কাশি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বাচ্চা শান্ত অবস্থায়ও শ্বাস নেওয়ার সময় গলা থেকে কর্কশ শব্দ (স্ট্রাইডর) করলে IMCI এটাকেও জরুরি লক্ষণ ধরে; তখনও এখনই হাসপাতালে যান।

কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে বাচ্চা শান্ত থাকার সময় এক মিনিট ধরে শ্বাস গুনুন। IMCI অনুযায়ী ১২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সে মিনিটে ৪০ বা বেশি হলে দ্রুত শ্বাস। দ্রুত শ্বাস বা বুকের নিচের অংশ ভেতরে ঢুকে যাওয়া দেখলে সেদিনই ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। আরও বিপদ চিহ্ন দেখুন জরুরি অবস্থা পাতায়। প্রশ্ন থাকলে স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করুন।

আরও তথ্য: ১২–২৪ মাসের বাচ্চার আরও লেখা।

সাধারণ প্রশ্ন

২ বছরের বাচ্চাকে দিনে কতবার খাওয়াব?

UNICEF ও WHO-র IMCI নির্দেশিকা অনুযায়ী ১ থেকে ২ বছরে দিনে ৩–৪ বার খাবার, আর মাঝে ১–২ বার নাশতা। বাচ্চা বুকের দুধ না খেলে UNICEF দিনে ৪–৫ বার খাবার আর ২ বার নাশতার কথা বলছে।

দেড় বছরের বাচ্চা একবারে কতটুকু খাবে?

UNICEF বলছে, প্রতিবার পৌনে এক কাপ থেকে এক কাপ খাবার (এক কাপ = ২৫০ মিলিলিটার)। IMCI এই বয়সে প্রতিবার পৌনে এক কাপের কথা বলছে। খিদে বুঝে খাওয়ান।

২ বছরের বাচ্চাকে কি বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাব?

হ্যাঁ। WHO বলছে, বুকের দুধ ২ বছর বা তার বেশি সময় চালিয়ে যান। UNICEF বলছে, এই বয়সে আগে অন্য খাবার দিন, তারপর খিদে থাকলে বুকের দুধ।

বাচ্চা খেতে না চাইলে কী করব?

UNICEF বলছে, খাওয়ার সময় যেন বাচ্চার খিদে থাকে, ঠিক আগে নাশতা দেবেন না। পছন্দের খাবারের সঙ্গে অন্য খাবার মিশিয়ে দিন। তারপরও না খেলে জোর করবেন না, আর জাঙ্ক ফুড দেবেন না; খাবার ঢেকে রেখে একটু পরে আবার দিন।

2 bochorer bachar khabar talika কেমন হবে?

পরিবারের খাবারই, মিহি করে কেটে বা চটকে: ভাত বা রুটি, ঘন ডাল, সবজি, আর প্রতিদিন ডিম, মাছ, মাংস বা দুধ। দিনে ৩–৪ বার খাবার আর ১–২ বার স্বাস্থ্যকর নাশতা, যেমন তাজা ফল। এই লেখায় একটি নমুনা রুটিন দেওয়া আছে।

এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা

সূত্র

  1. WHO – Integrated Management of Childhood Illness (IMCI) chart booklet (March 2014) — WHO
  2. UNICEF Parenting – Feeding your baby: 1–2 years — UNICEF
  3. WHO – Guideline for complementary feeding of infants and young children 6–23 months of age (2023) — WHO
  4. WHO – Infant and young child feeding (fact sheet) — WHO
  5. DGHS – স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ — DGHS

কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান