বাচ্চার পেটে কৃমি: লক্ষণ ও প্রতিরোধ
বাচ্চার পেটে কৃমি কীভাবে ঢোকে, কোন লক্ষণ দেখা দিতে পারে, আর হাত ধোয়া, ল্যাট্রিন ব্যবহার ও জুতা পরে কীভাবে ঠেকাবেন। কৃমির ওষুধের জন্য স্বাস্থ্যকর্মী বা ১৬২৬৩।
এক নজরে
- WHO বলছে, কৃমির ডিম আক্রান্ত মানুষের পায়খানা থেকে মাটিতে মেশে; মাটিতে খেলে না-ধোয়া হাত মুখে দিলে, ভালো করে না-ধোয়া বা না-রাঁধা সবজি খেলে, বা দূষিত পানি থেকে বাচ্চার পেটে কৃমি ঢুকতে পারে।
- অল্প কৃমিতে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না; বেশি কৃমিতে পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, অপুষ্টি, দুর্বলতা, খিদে কমে যাওয়া আর বেড়ে ওঠায় বাধা হতে পারে।
- প্রতিরোধ: মাটিতে খেলার পর হাত ধুয়ে দিন, সবসময় ল্যাট্রিন ব্যবহার করুন, বাইরে খালি পায়ে হাঁটতে দেবেন না, সবজি ভালো করে ধুয়ে রাঁধুন, আর নিরাপদ পানি দিন।
- কৃমির ওষুধ কবে, কোনটা, তা স্বাস্থ্যকর্মী ঠিক করবেন; জানতে স্বাস্থ্যকর্মীকে জিজ্ঞেস করুন বা ১৬২৬৩-এ ফোন করুন।
বাচ্চার পেটে কৃমি (অনেকে যেটা খোঁজেন “bacchar pete krimi hole ki korbo” লিখে) মাটি থেকে ছড়ানো একটি সাধারণ সংক্রমণ। এই লেখা WHO-র মাটি-বাহিত কৃমি (সয়েল-ট্রান্সমিটেড হেলমিন্থ) বিষয়ক তথ্যপত্র থেকে সাজানো: কৃমি কীভাবে ঢোকে, কোন লক্ষণ দেখা দিতে পারে, আর কীভাবে ঠেকাবেন।
কৃমি কীভাবে ছড়ায়
WHO বলছে, কৃমির ডিম আক্রান্ত মানুষের পায়খানার সঙ্গে বের হয়, আর যেখানে স্যানিটেশন ভালো নয়, সেখানে মাটিতে মিশে যায়। তারপর ডিম পেটে যেতে পারে:
- হাত থেকে: বাচ্চা দূষিত মাটিতে খেলে না-ধোয়া হাত মুখে দিলে।
- সবজি থেকে: সবজি ভালো করে না রাঁধলে, না ধুলে বা না ছুললে।
- পানি থেকে: দূষিত পানি থেকে।
- খালি পায়ে: হুকওয়ার্ম মূলত দূষিত মাটিতে খালি পায়ে হাঁটলে চামড়া ভেদ করে ঢোকে।
WHO জানায়, সদ্য করা পায়খানা থেকে সরাসরি বা একজন থেকে আরেকজনে কৃমি ছড়ায় না; ডিম মাটিতে কয়েক সপ্তাহ থেকে তবেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
বাচ্চার পেটে কৃমির লক্ষণ
WHO বলছে, অল্প কৃমি থাকলে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। বেশি কৃমি থাকলে হতে পারে:
- পাতলা পায়খানা আর পেট ব্যথা।
- অপুষ্টি।
- অসুস্থ বোধ আর দুর্বলতা।
- খিদে কমে যাওয়া।
- বেড়ে ওঠা ও শারীরিক বিকাশে বাধা।
হুকওয়ার্ম অন্ত্র থেকে ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে রক্তস্বল্পতা করতে পারে। এসব লক্ষণ অন্য অসুখেরও হতে পারে, তাই নিজে থেকে ধরে না নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারকে দেখান। পাতলা পায়খানা হলে কী করবেন: বাচ্চার পাতলা পায়খানা হলে করণীয়।
কৃমি প্রতিরোধে যা করবেন
WHO বলছে, কৃমি নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি হলো নিয়মিত কৃমিনাশক, আবার সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যশিক্ষা, আর মাটিতে ডিম মেশা কমাতে ভালো স্যানিটেশন। ঘরে যা করতে পারেন:
- হাত ধোয়া: মাটিতে খেলার পর বাচ্চার হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে দিন, যাতে না-ধোয়া হাত মুখে না যায়।
- জুতা: বাইরে মাটিতে বাচ্চাকে খালি পায়ে হাঁটতে দেবেন না; জুতা বা স্যান্ডেল পরান।
- সবজি: ভালো করে ধুয়ে, দরকারে ছুলে, আর ভালো করে রেঁধে দিন।
- পানি: নিরাপদ পানি দিন।
কৃমির ওষুধ
WHO বলছে, যেসব এলাকায় কৃমি বেশি, সেখানে ঝুঁকিতে থাকা সবাইকে আলাদা করে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়মিত কৃমিনাশক দেওয়ার কর্মসূচির সুপারিশ করে; এটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে চলে। কোন বয়সে, কবে আর কোন ওষুধ দেওয়া হবে, তা আমরা লিখছি না; স্বাস্থ্যকর্মীকে জিজ্ঞেস করুন, বা স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করুন। নিজে থেকে কোনো ওষুধ দেবেন না।
কখন এখনই হাসপাতালে
শিশুর কোনো বিপদ চিহ্ন দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে যান; বিপদ চিহ্নগুলো দেখুন: জরুরি অবস্থা। পায়খানায় রক্ত গেলে ডাক্তার দেখান।
সাধারণ প্রশ্ন
বাচ্চার পেটে কৃমি হলে কী লক্ষণ দেখা যায়?
WHO বলছে, অল্প কৃমি থাকলে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। বেশি কৃমি থাকলে পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, অপুষ্টি, দুর্বলতা ও অসুস্থ বোধ, খিদে কমে যাওয়া, আর বেড়ে ওঠায় বাধা হতে পারে। এমন লক্ষণে স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখান।
বাচ্চার কৃমি হয় কীভাবে?
WHO বলছে, আক্রান্ত মানুষের পায়খানায় থাকা কৃমির ডিম মাটিতে মেশে, যেখানে স্যানিটেশন ভালো নয়। বাচ্চা মাটিতে খেলে না-ধোয়া হাত মুখে দিলে, ভালো করে না-ধোয়া, না-ছোলা বা না-রাঁধা সবজি খেলে, বা দূষিত পানি খেলে ডিম পেটে যায়। হুকওয়ার্ম মূলত দূষিত মাটিতে খালি পায়ে হাঁটলে ঢোকে।
বাচ্চাকে কৃমির ওষুধ কখন খাওয়াব?
WHO যেসব এলাকায় কৃমি বেশি, সেখানে ঝুঁকিতে থাকা সবাইকে নিয়মিত কৃমিনাশক দেওয়ার কর্মসূচির সুপারিশ করে। কোন বয়সে, কবে আর কোন ওষুধ, তা স্বাস্থ্যকর্মী ঠিক করবেন; আমরা ওষুধের নাম বা মাত্রা লিখি না। জানতে স্বাস্থ্যকর্মীকে জিজ্ঞেস করুন বা ১৬২৬৩-এ ফোন করুন।
কৃমি প্রতিরোধে কী করব?
মাটিতে খেলার পর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে দিন, পরিবারের সবাই ল্যাট্রিন ব্যবহার করুন, বাইরে বাচ্চাকে জুতা বা স্যান্ডেল পরান, সবজি ভালো করে ধুয়ে, ছুলে বা রেঁধে দিন, আর নিরাপদ পানি দিন।
Bacchar pete krimi hole ki korbo?
লক্ষণ থাকলে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারকে দেখান; কৃমির ওষুধ তাঁরাই ঠিক করবেন। পাশাপাশি হাত ধোয়া, ল্যাট্রিন ব্যবহার আর জুতা পরার অভ্যাস করুন। প্রশ্ন থাকলে ১৬২৬৩-এ ফোন করুন।
এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা
সূত্র
কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান