বাচ্চার পায়খানা না হলে করণীয়: কখন চিন্তা করবেন

বাচ্চার পায়খানা না হলে করণীয়: বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চার কয়েক দিন পরপর পায়খানা স্বাভাবিক হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ, বাড়িতে কী করবেন, কখন হাসপাতাল।

এক নজরে

  • UNICEF বলছে, বুকের দুধ খাওয়া কিছু বাচ্চা কয়েক দিন পরপর একবার পায়খানা করে; পায়খানা নরম আর সহজে হলে, আর বাচ্চা কষ্ট না পেলে, এটা চিন্তার নয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ: বাচ্চার নিজের স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে কম পায়খানা, খুব জোর দেওয়া বা কষ্ট পাওয়া, আর শক্ত, ছোট ছোট নুড়ির মতো পায়খানা।
  • ৬ মাসের কম বয়সে শুধু আরও বেশিবার বুকের দুধ দিন; পানি বা জুস নয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না।
  • জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন কালো, আঠালো পায়খানা (মিকোনিয়াম) স্বাভাবিক; পরে পায়খানা লাল, সাদা বা কালো হলে এখনই ডাক্তার দেখান।
  • পেট ব্যথার সঙ্গে বমি, বাচ্চা ব্যথায় কেঁদে পা গুটিয়ে নিলে, পেট খুব ফুলে গেলে, বা খিঁচুনি, খুব নিস্তেজ হওয়ার মতো বিপদ চিহ্ন থাকলে এখনই হাসপাতালে যান; দেখুন জরুরি অবস্থা পাতা।

বাচ্চার পায়খানা না হলে করণীয় কী (অনেকে যেটা খোঁজেন “bacchar pykhana na hole ki korbo” লিখে), সেটা বোঝার আগে জানুন কোনটা স্বাভাবিক। UNICEF বলছে, কোনো বাচ্চা দিনে কয়েকবার পায়খানা করে, আবার বুকের দুধ খাওয়া কিছু বাচ্চা কয়েক দিন পরপর একবার। জরুরি হলো পায়খানা নরম আর সহজে হচ্ছে কি না, আর বাচ্চা কষ্ট পাচ্ছে কি না।

কোনটা স্বাভাবিক

  • প্রথম কয়েক দিন: UNICEF বলছে, একদম শুরুর দিনগুলোতে বাচ্চার পায়খানা কালো, আঠালো আর আলকাতরার মতো হতে পারে; একে মিকোনিয়াম বলে। বাচ্চা খেতে শুরু করলে পায়খানা ধীরে ধীরে হালকা হয়।
  • রং: এরপর পায়খানা গাঢ় বাদামি থেকে হালকা বাদামি, হলুদ বা সবুজ হতে পারে।
  • কতবার: বাচ্চাভেদে আলাদা। বুকের দুধ খাওয়া কিছু বাচ্চা কয়েক দিন পরপর পায়খানা করে, তবু পায়খানা নরম আর সহজে হওয়া উচিত (UNICEF)।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ

UNICEF বলছে, আগে খেয়াল করুন আপনার বাচ্চার নিজের স্বাভাবিক নিয়ম কেমন। তার চেয়ে কম পায়খানা হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। লক্ষণ:

  • পায়খানা করতে খুব জোর দেওয়া বা কষ্ট পাওয়া।
  • পায়খানা খুব শক্ত, বা ছোট ছোট নুড়ি-পাথরের মতো।
  • কখনো ত্বক ছিঁড়ে পায়খানায় রক্তের ছোট ছোট দাগ।

পায়খানা খুব ঘন ঘন আর পানির মতো হলে সেটা ডায়রিয়া হতে পারে: বাচ্চার পাতলা পায়খানা হলে করণীয়।

বাড়িতে কী করবেন

  • ৬ মাসের কম বয়সে: UNICEF বলছে, শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক থাকলে পায়খানা সহজ হয়। এই বয়সে এর মানে শুধু আরও বেশিবার বুকের দুধ। পানি, জুস বা অন্য কিছু দেবেন না; ৬ মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ। বিস্তারিত: প্রথম ছয় মাস বাচ্চাকে শুধু বুকের দুধ কেন।
  • যে বাচ্চা অন্য খাবার খায়: UNICEF বলছে, কিছু ফলের খাবার, বা ওট বা গমের তৈরি খাবার পায়খানা সহজ করতে পারে; প্যাকেটের চালের সিরিয়াল (রাইস সিরিয়াল) এড়িয়ে চলুন, কারণ তা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে। এই বয়সের খাবার তালিকা দেখুন: ৯–১১ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা।
  • আরাম: UNICEF বলছে, গোসল করানো, বা বাচ্চাকে শুইয়ে তার পা সাইকেল চালানোর মতো করে নাড়ানো সাহায্য করতে পারে।
  • ওষুধ নয়: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাকে কোনো ওষুধ বা জোলাপ দেবেন না (UNICEF)। আমরা কোনো ওষুধের নাম বা মাত্রা বলি না।

কখন দেরি না করে ডাক্তার বা হাসপাতাল

পায়খানার রং: UNICEF বলছে, প্রথম কয়েক দিনের মিকোনিয়ামের পরে বাচ্চার পায়খানা কখনো লাল, সাদা বা কালো হওয়া উচিত নয়। এমন দেখলে এখনই ডাক্তার দেখান।

পানিশূন্যতা: মুখ খুব শুকনো, কাঁদলে চোখে পানি কম, খুব ঘুম ঘুম ভাব, প্রস্রাব কম, বা মাথার নরম জায়গা বসে গেছে, এমন দেখলে UNICEF এখনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে বলে।

পেট ব্যথা: WHO-র শিশু হাসপাতাল নির্দেশিকা বলছে, ৪ ঘণ্টার বেশি পেট ব্যথা সম্ভাব্য জরুরি অবস্থা। ২ বছরের কম বয়সী বাচ্চার অন্ত্রে প্যাঁচ লাগার (ইন্টাসাসেপশন) মতো সমস্যায় প্রথমে পেটে মোচড়ানো ব্যথার সঙ্গে বমি হয়; বাচ্চা ব্যথায় কাঁদে, কুঁকড়ে যায় আর পা গুটিয়ে নেয়। পরে বাচ্চা ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে, পেট ফুলে যায়, আর পায়খানায় লাল জেলির মতো রক্ত আসে। এসব দেখলে এখনই হাসপাতালে নিন।

২ মাসের কম বয়সী শিশু: WHO বলছে, পেট খুব বেশি ফুলে যাওয়া গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে; এখনই হাসপাতালে নিন।

WHO-র IMCI নির্দেশিকা অনুযায়ী ২ মাসের কম বয়সী শিশুর নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ খুব গুরুতর অসুখের লক্ষণ হতে পারে। এখনই হাসপাতালে নিন:

  • ঠিকমতো খেতে পারছে না।
  • খিঁচুনি হয়েছে।
  • দ্রুত শ্বাস: মিনিটে ৬০ বা বেশি।
  • শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ জোরে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।
  • বগলে মাপা তাপমাত্রা ৩৭.৫° সেলসিয়াস বা তার বেশি, অথবা ৩৫.৫° সেলসিয়াসের কম।
  • শুধু নাড়া দিলে নড়ছে, অথবা একেবারেই নড়ছে না।

২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সে IMCI অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটি সাধারণ বিপদ চিহ্ন থাকলে এখনই হাসপাতালে নিন:

  • শিশু কিছু পান করতে পারছে না, বা বুকের দুধ টানতে পারছে না।
  • যা খায় বা পান করে, সব বমি করে ফেলে দিচ্ছে।
  • খিঁচুনি হচ্ছে, বা হয়েছে।
  • শিশু খুব নিস্তেজ, বা অচেতন।

নবজাতকের আরও বিপদ চিহ্ন: নবজাতকের বিপদ চিহ্ন। জরুরি নম্বর আর পথে কী করবেন: জরুরি অবস্থা। প্রশ্ন থাকলে স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চার কয়েক দিন পায়খানা না হলে কি চিন্তার?

সব সময় নয়। UNICEF বলছে, বুকের দুধ খাওয়া কিছু বাচ্চা কয়েক দিন পরপর একবার পায়খানা করে। জরুরি হলো পায়খানা নরম আর সহজে হচ্ছে কি না, আর বাচ্চা কষ্ট পাচ্ছে কি না।

বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য কীভাবে বুঝব?

UNICEF বলছে, আগে দেখুন বাচ্চার স্বাভাবিক নিয়ম কেমন; তার চেয়ে কম পায়খানা হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। লক্ষণ: খুব জোর দেওয়া বা কষ্ট পাওয়া, আর শক্ত বা ছোট ছোট নুড়ির মতো পায়খানা, কখনো ত্বক ছিঁড়ে রক্তের ছোট দাগ।

বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় কী?

UNICEF বলছে, শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক থাকলে পায়খানা সহজ হয়। ৬ মাসের কম বয়সে এর মানে শুধু আরও বেশিবার বুকের দুধ, পানি বা জুস নয়। যে বাচ্চা অন্য খাবার খায়, তাকে কিছু ফলের খাবার বা ওট বা গমের তৈরি খাবার দিতে পারেন, আর প্যাকেটের চালের সিরিয়াল (রাইস সিরিয়াল) এড়িয়ে চলুন। গোসল বা পা দিয়ে সাইকেল চালানোর মতো নাড়াচাড়াও সাহায্য করতে পারে।

বাচ্চার পায়খানা না হলে কি ওষুধ দেব?

না। UNICEF বলছে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাকে কোনো ওষুধ বা জোলাপ দেবেন না। আমরা কোনো ওষুধের নাম বা মাত্রা বলি না।

নবজাতকের কালো পায়খানা কি স্বাভাবিক?

জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন হ্যাঁ। UNICEF বলছে, একদম শুরুর দিনগুলোতে পায়খানা কালো, আঠালো আর আলকাতরার মতো হতে পারে; একে মিকোনিয়াম বলে। এরপর পায়খানা কখনো লাল, সাদা বা কালো হলে এখনই ডাক্তার দেখান।

Bacchar pykhana na hole ki korbo?

বাচ্চা কষ্ট না পেলে আর পায়খানা নরম হলে কয়েক দিন পরপর পায়খানাও স্বাভাবিক হতে পারে। ৬ মাসের কম বয়সে বেশি করে বুকের দুধ দিন, পানি বা জুস নয়; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ নয়। পেট ব্যথার সঙ্গে বমি, পেট খুব ফুলে যাওয়া বা পায়খানায় রক্ত দেখলে এখনই হাসপাতালে যান।

এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা

সূত্র

  1. UNICEF Parenting – Baby poop: what's normal? — UNICEF
  2. UNICEF Parenting – Newborn baby health — UNICEF
  3. UNICEF Parenting – Baby constipation — UNICEF
  4. WHO – Pocket book of hospital care for children, 2nd edition (2013) — WHO
  5. WHO – Integrated Management of Childhood Illness (IMCI) chart booklet (March 2014) — WHO

কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান