বাচ্চার নাক বন্ধ হলে করণীয়: সর্দিতে কখন ডাক্তার দেখাবেন
বাচ্চার নাক বন্ধ হলে করণীয়: ঘন ঘন বুকের দুধ দিন, দুধ টানতে কষ্ট হলে নাক পরিষ্কার করুন, নিজে থেকে ওষুধ নয়; দ্রুত শ্বাস হলে সেদিনই ডাক্তার। WHO অনুযায়ী।
এক নজরে
- দ্রুত শ্বাস, বুক দেবে যাওয়া বা বিপদ চিহ্ন না থাকলে সাধারণ সর্দি-কাশির যত্ন বাড়িতেই নেওয়া যায়।
- ঘন ঘন বুকের দুধ দিন; ৬ মাসের কম হলে পানি নয়, শুধু বুকের দুধ।
- নাক বন্ধ থাকায় বুকের দুধ টানতে কষ্ট হলে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ মতো নাক পরিষ্কার করে দিন।
- ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না।
- দ্রুত শ্বাস বা বুকের নিচের অংশ ভেতরে ঢুকে গেলে সেদিনই ডাক্তার দেখান; বিপদ চিহ্ন দেখলে এখনই হাসপাতালে যান।
সংক্ষেপে: বাচ্চার নাক বন্ধ বা সর্দি হলে ঘন ঘন বুকের দুধ দিন (৬ মাসের কম হলে শুধু বুকের দুধ), দুধ টানতে কষ্ট হলে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ মতো নাক পরিষ্কার করুন, আর নিজে থেকে কোনো ওষুধ দেবেন না। দ্রুত শ্বাস বা বুক দেবে গেলে সেদিনই ডাক্তার দেখান; বিপদ চিহ্ন দেখলে এখনই হাসপাতালে যান (জরুরি অবস্থা)।
বাচ্চার নাক বন্ধ হলে করণীয় (অনেকে যেটা খোঁজেন “bacchar nak bondho hole koronio” লিখে) কী, তা নির্ভর করে সঙ্গে আর কী লক্ষণ আছে তার ওপর। WHO-র শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশিকা (IMCI) অনুযায়ী, সর্দি বা কাশির সঙ্গে দ্রুত শ্বাস, বুক দেবে যাওয়া বা কোনো বিপদ চিহ্ন না থাকলে বাড়িতেই যত্ন নেওয়া যায়। কিন্তু এসব লক্ষণ থাকলে সেটা নিউমোনিয়া বা আরও গুরুতর অসুখ হতে পারে, তখন দেরি করা যাবে না।
বাচ্চার নাক বন্ধ হলে করণীয়: বাড়িতে যত্ন
- বুকের দুধ চালিয়ে যান: অসুস্থ বাচ্চাকে আরও ঘন ঘন ও বেশি সময় ধরে বুকের দুধ দিন। IMCI বলছে, বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চার গলা আরাম ও কাশি কমানোর নিরাপদ উপায় হলো বুকের দুধ।
- ৬ মাসের কম হলে শুধু বুকের দুধ: পানি বা অন্য কিছু নয়। পড়ুন: প্রথম ছয় মাস বাচ্চাকে শুধু বুকের দুধ কেন।
- ৬ মাস বা তার বেশি হলে: বুকের দুধের পাশাপাশি বেশি করে তরল দিন, যেমন স্যুপ, ভাতের মাড় বা পরিষ্কার পানি, আর খাবার চালিয়ে যান।
- নাক বন্ধে দুধ টানতে কষ্ট হলে: IMCI বলছে, বন্ধ নাক বুকের দুধ খাওয়ায় বাধা দিলে নাক পরিষ্কার করে দিতে হবে। কীভাবে করবেন, তা স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে জেনে নিন।
- ওষুধ নিজে থেকে নয়: ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ, ড্রপ বা সিরাপ দেবেন না।
IMCI অনুযায়ী, বাড়িতে যত্নের পরও ৫ দিনে ভালো না হলে আবার স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখান। কাশি ১৪ দিনের বেশি থাকলেও ডাক্তার দেখান।
দ্রুত শ্বাস ও বুক দেবে যাওয়া: নিউমোনিয়ার লক্ষণ
UNICEF ও WHO বলছে, নিউমোনিয়া ফুসফুসের সংক্রমণ, আর এর সাধারণ লক্ষণ কাশি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর। নিউমোনিয়ায় বাচ্চা দ্রুত শ্বাস নেয়, অথবা শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভেতরে ঢুকে যায়। সুস্থ অবস্থায় শ্বাস নিলে বুক ফোলে।
বাচ্চা শান্ত থাকার সময় এক মিনিট ধরে শ্বাস গুনুন। IMCI অনুযায়ী দ্রুত শ্বাস মানে:
- ২ মাসের কম: মিনিটে ৬০ বা বেশি;
- ২ মাস থেকে ১২ মাসের কম: মিনিটে ৫০ বা বেশি;
- ১২ মাস থেকে ৫ বছর: মিনিটে ৪০ বা বেশি।
দ্রুত শ্বাস বা বুক দেবে যাওয়া দেখলে সেদিনই ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। IMCI আরও বলছে, সর্দি-কাশির বাচ্চার শ্বাস দ্রুত হলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, জ্বর এলে বা বাচ্চা আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আবার স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে যান।
কখন দেরি না করে হাসপাতালে যাবেন
IMCI অনুযায়ী ২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী বাচ্চার নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখলে এখনই হাসপাতালে নিন:
- কিছু পান করতে বা বুকের দুধ টানতে পারছে না।
- যা খায় সব বমি করে ফেলছে।
- খিঁচুনি হচ্ছে বা হয়েছে।
- খুব নিস্তেজ বা অচেতন হয়ে পড়েছে।
- শান্ত অবস্থায়ও শ্বাস নেওয়ার সময় গলা থেকে কর্কশ শব্দ (স্ট্রাইডর) হচ্ছে।
IMCI অনুযায়ী ২ মাসের কম বয়সী শিশুর নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ থাকলেও দেরি না করে হাসপাতালে যান:
- ঠিকমতো খেতে পারছে না।
- খিঁচুনি হয়েছে।
- দ্রুত শ্বাস: মিনিটে ৬০ বা বেশি।
- শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ জোরে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।
- বগলে মাপা তাপমাত্রা ৩৭.৫° সেলসিয়াস বা তার বেশি, অথবা ৩৫.৫° সেলসিয়াসের কম।
- শুধু নাড়া দিলে নড়ছে, অথবা একেবারেই নড়ছে না।
সব বিপদ চিহ্ন দেখুন: নবজাতকের বিপদ চিহ্ন ও জরুরি অবস্থা।
নিউমোনিয়া থেকে বাচ্চাকে বাঁচাতে
WHO ও UNICEF বলছে:
- প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে, আর অসুখ হলে তার মেয়াদও কমায়।
- সময়মতো টিকা নিউমোনিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। দেখুন: শিশুর টিকার সময়সূচি (ইপিআই)।
- কাঠ বা গোবর দিয়ে রান্নার ধোঁয়া, ঘিঞ্জি ঘর আর মা-বাবার ধূমপান ঝুঁকি বাড়ায়। বাচ্চাকে ধোঁয়া থেকে দূরে রাখুন।
- সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সংক্রমণ কমায়।
জ্বর থাকলে আরও পড়ুন: বাচ্চার জ্বর হলে করণীয়।
সাধারণ প্রশ্ন
নবজাতকের নাক বন্ধ হলে কী করব?
বুকের দুধ চালিয়ে যান। নাক বন্ধ থাকায় দুধ টানতে কষ্ট হলে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ মতো নাক পরিষ্কার করে দিন। ২ মাসের কম বয়সী শিশু ঠিকমতো খেতে না পারলে, খিঁচুনি হলে, মিনিটে ৬০ বা তার বেশি বার শ্বাস নিলে, শ্বাসের সময় বুকের নিচের অংশ জোরে ভেতরে ঢুকে গেলে, বগলে মাপা তাপমাত্রা ৩৭.৫° সেলসিয়াস বা তার বেশি অথবা ৩৫.৫° সেলসিয়াসের কম হলে, বা শুধু নাড়া দিলে নড়লে অথবা একেবারেই না নড়লে, দেরি না করে হাসপাতালে যান।
বাচ্চার সর্দি হলে কি নাকে ড্রপ বা ওষুধ দেব?
ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না। WHO-র IMCI নির্দেশিকা অনুযায়ী বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চার গলা আরাম ও কাশি কমানোর নিরাপদ উপায় হলো বুকের দুধ।
সর্দি থেকে কি নিউমোনিয়া হতে পারে? কীভাবে বুঝব?
নিউমোনিয়া ফুসফুসের সংক্রমণ। WHO বলছে, কাশি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে দ্রুত শ্বাস বা বুকের নিচের অংশ ভেতরে ঢুকে যাওয়া নিউমোনিয়ার লক্ষণ। এমন দেখলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
বাচ্চার নাক দিয়ে পানি পড়লে বা সর্দি কাশি হলে কতদিনে ডাক্তার দেখাব?
WHO-র IMCI অনুযায়ী বাড়িতে যত্নের পরও ৫ দিনে ভালো না হলে আবার স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখান, আর কাশি ১৪ দিনের বেশি থাকলে ডাক্তার দেখান। দ্রুত শ্বাস, বুক দেবে যাওয়া, জ্বর বা বাচ্চা আরও অসুস্থ হলে অপেক্ষা না করে তখনই যান।
Bacchar sordi hole ki korbo?
অসুস্থ বাচ্চাকে আরও ঘন ঘন ও বেশি সময় ধরে বুকের দুধ দিন, আর নাক বন্ধের কারণে দুধ টানতে কষ্ট হলে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ মতো নাক পরিষ্কার করে দিন। সর্দির সঙ্গে দ্রুত শ্বাস বা শ্বাসের সময় বুকের নিচের অংশ ভেতরে ঢুকে গেলে সেদিনই ডাক্তার দেখান, আর কোনো বিপদ চিহ্ন দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।
এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা
সূত্র
কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান