বাচ্চাকে গরুর দুধ কখন থেকে: বয়স অনুযায়ী নিয়ম

বাচ্চাকে গরুর দুধ কখন দেওয়া যাবে: ৬ মাসের আগে নয়, ৬–১১ মাসে আর ১–২ বছরে কী নিয়ম, ফুটিয়ে কাপে খাওয়ানো, আর কেন বুকের দুধের বদলে নয়। WHO অনুযায়ী।

এক নজরে

  • ৬ মাসের আগে গরুর দুধ বা অন্য কোনো প্রাণীর দুধ নয়; এই সময় শুধু বুকের দুধ, পানিও নয়। WHO-র IMCI নির্দেশিকা বলছে, এই বয়সে প্রাণীর দুধ উপযুক্ত নয়।
  • WHO বলছে, বুকের দুধ ২ বছর বা তার বেশি সময় চালিয়ে যান; যে বাচ্চা বুকের দুধ পায়, তার দুধের চাহিদা বুকের দুধেই মেটে, পাশাপাশি দই বা দুগ্ধজাত খাবার খাদ্যের অংশ হতে পারে।
  • ৬–১১ মাসের যে বাচ্চা বুকের দুধ পায় না, তাকে প্রাণীর দুধ দিলে পুরো ননির দুধ দিন, ফুটিয়ে ঠান্ডা করে, কাপে; বোতলে নয়।
  • ১–২ বছরের যে বাচ্চা বুকের দুধ পায় না, WHO তাকে প্রাণীর দুধ দিতে বলছে; চিনি বা স্বাদ মেশানো দুধ আর কনডেন্সড মিল্ক নয়।
  • বাচ্চা কিছু পান করতে বা বুকের দুধ টানতে না পারলে, সব বমি করলে, খিঁচুনি হলে বা খুব নিস্তেজ বা অচেতন হলে এখনই হাসপাতালে যান; দেখুন জরুরি অবস্থা পাতা।

বাচ্চাকে গরুর দুধ কখন দেওয়া যাবে (অনেকে যেটা খোঁজেন “bacchake gorur dudh kokhon” লিখে), তার উত্তর নির্ভর করে বয়স আর বাচ্চা বুকের দুধ পায় কি না তার ওপর। নিচে WHO-র ২০২৩ সালের পরিপূরক খাবারের নির্দেশিকা, WHO-র শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশিকা (IMCI) আর UNICEF-এর পরামর্শ অনুযায়ী বয়সভিত্তিক নিয়ম দেওয়া হলো।

৬ মাসের আগে: গরুর দুধ নয়

WHO বলছে, প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু বুকের দুধ দিন; চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো খাবার বা পানীয়, এমনকি পানিও নয়। IMCI নির্দেশিকা স্পষ্ট বলছে, ৬ মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য গরুর দুধ বা অন্য প্রাণীর দুধ উপযুক্ত নয়, বদলানো হলেও। বিস্তারিত: প্রথম ছয় মাস বাচ্চাকে শুধু বুকের দুধ কেন।

৬ থেকে ১১ মাস

  • বুকের দুধ পেলে: WHO বলছে, বুকের দুধ পাওয়া বাচ্চার দুধ বুকের দুধ থেকেই আসে; পাশাপাশি অন্য দুগ্ধজাত খাবার নানা রকম খাবারের অংশ হতে পারে।
  • বুকের দুধ না পেলে: WHO-র নির্দেশিকা বলছে, এই বয়সে বুকের দুধ ছাড়া অন্য দুধ পাওয়া বাচ্চাকে ফর্মুলা বা প্রাণীর দুধ, যেকোনোটি দেওয়া যায়। প্রাণীর দুধ দিলে পুরো ননির (ফুল ফ্যাট) দুধ দিন।
  • ফুটিয়ে দিন: IMCI বলছে, ৬ থেকে ১২ মাস বয়সে দুধ ফুটিয়ে ঠান্ডা করে দিন, পাস্তুরিত দুধ হলেও।
  • কাপে দিন, বোতলে নয়: IMCI দুধ কাপে খাওয়াতে বলে।

কোন দুধ দেবেন, সে বিষয়ে আপনার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।

১ থেকে ২ বছর

  • বুকের দুধ চালিয়ে যান: WHO বলছে, বুকের দুধ ২ বছর বা তার বেশি সময় চলবে।
  • প্রতিদিন প্রাণিজ খাবার: UNICEF বলছে, প্রতিদিন দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, মাছ বা মাংসের একটা অংশ দিন।
  • বুকের দুধ না পেলে: WHO বলছে, ১২ থেকে ২৩ মাসের বাচ্চাকে প্রাণীর দুধ দিন। “ফলো-আপ ফর্মুলা” WHO সুপারিশ করে না। UNICEF বলছে, তখন দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বাচ্চার খাদ্যের খুব জরুরি অংশ।

এই বয়সের পুরো খাবার তালিকা: দেড় থেকে ২ বছরের বাচ্চার খাবার তালিকা ও রুটিন।

কোন দুধ, কীভাবে

WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী:

  • দেওয়া যায়: পাস্তুরিত প্রাণীর দুধ, পানি মিশিয়ে তৈরি করা ইভাপোরেটেড দুধ, গাঁজানো দুধ বা দই।
  • দেবেন না: চিনি বা স্বাদ মেশানো দুধ। কনডেন্সড মিল্কও নয়। WHO বলছে, চিনি মেশানো দুধ ৬ থেকে ২৩ মাসের বাচ্চার জন্য উপযুক্ত নয়।
  • নিরাপদে রাখুন: দুধ রাখা আর নাড়াচাড়ায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন।

কখন দেরি না করে হাসপাতালে যাবেন

WHO-র IMCI নির্দেশিকা অনুযায়ী ২ মাসের কম বয়সী শিশুর নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ খুব গুরুতর অসুখের লক্ষণ হতে পারে। এখনই হাসপাতালে নিন:

  • ঠিকমতো খেতে পারছে না।
  • খিঁচুনি হয়েছে।
  • দ্রুত শ্বাস: মিনিটে ৬০ বা বেশি।
  • শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ জোরে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।
  • বগলে মাপা তাপমাত্রা ৩৭.৫° সেলসিয়াস বা তার বেশি, অথবা ৩৫.৫° সেলসিয়াসের কম।
  • শুধু নাড়া দিলে নড়ছে, অথবা একেবারেই নড়ছে না।

২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সে IMCI অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটি সাধারণ বিপদ চিহ্ন থাকলে এখনই হাসপাতালে নিন:

  • শিশু কিছু পান করতে পারছে না, বা বুকের দুধ টানতে পারছে না।
  • যা খায় বা পান করে, সব বমি করে ফেলে দিচ্ছে।
  • খিঁচুনি হচ্ছে, বা হয়েছে।
  • শিশু খুব নিস্তেজ, বা অচেতন।

আরও বিপদ চিহ্ন আর জরুরি নম্বর দেখুন জরুরি অবস্থা পাতায়। প্রশ্ন থাকলে স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

বাচ্চাকে গরুর দুধ কখন দেওয়া যাবে?

৬ মাসের আগে নয়; তখন শুধু বুকের দুধ। ৬ মাস থেকে যে বাচ্চা বুকের দুধ পায় না, WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী তাকে প্রাণীর দুধ দেওয়া যায়: ৬–১১ মাসে পুরো ননির দুধ, ফুটিয়ে ঠান্ডা করে, কাপে। ১–২ বছরে বুকের দুধ না পেলে WHO প্রাণীর দুধ দিতে বলছে।

১ বছরের বাচ্চাকে গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে?

হ্যাঁ। UNICEF বলছে, ১ থেকে ২ বছরে প্রতিদিন দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, মাছ বা মাংসের মতো প্রাণিজ খাবারের একটা অংশ দিন। বুকের দুধ না পেলে WHO প্রাণীর দুধ দিতে বলছে। তবে বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়াই ভালো, ২ বছর বা তার বেশি।

৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাকে কি গরুর দুধ দেওয়া যায়?

না। WHO বলছে, প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ, অন্য কোনো খাবার বা পানীয়, এমনকি পানিও নয়। IMCI নির্দেশিকা বলছে, ৬ মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য গরুর দুধ বা অন্য প্রাণীর দুধ উপযুক্ত নয়।

গরুর দুধ কি ফুটিয়ে দিতে হবে?

IMCI নির্দেশিকা বলছে, ৬ থেকে ১২ মাস বয়সী বাচ্চাকে দুধ ফুটিয়ে ঠান্ডা করে দিন, পাস্তুরিত দুধ হলেও। দুধ কাপে খাওয়ান, বোতলে নয়।

Bacchake gorur dudh kokhon theke deya jay?

৬ মাসের আগে নয়। ৬ মাস থেকে বুকের দুধ না পাওয়া বাচ্চাকে পুরো ননির প্রাণীর দুধ, ফুটিয়ে ঠান্ডা করে, কাপে দেওয়া যায়; ১–২ বছরে বুকের দুধ না পেলে WHO প্রাণীর দুধ দিতে বলছে। চিনি মেশানো দুধ বা কনডেন্সড মিল্ক নয়।

এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা

সূত্র

  1. WHO – Guideline for complementary feeding of infants and young children 6–23 months of age (2023) — WHO
  2. WHO – Integrated Management of Childhood Illness (IMCI) chart booklet (March 2014) — WHO
  3. WHO – Infant and young child feeding (fact sheet) — WHO
  4. UNICEF Parenting – Feeding your baby: 6–12 months — UNICEF
  5. UNICEF Parenting – Feeding your baby: 1–2 years — UNICEF
  6. DGHS – স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ — DGHS

কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান