বাচ্চার পেটে গ্যাস ও কলিক: কী করবেন, কখন হাসপাতাল
বাচ্চার পেটে গ্যাস ও কলিক: আটকে থাকা গ্যাসের লক্ষণ, ঢেকুর তোলানোর তিনটি উপায়, পেটে হালকা মালিশ, কলিক কাকে বলে, আর কোন লক্ষণে এখনই হাসপাতাল।
এক নজরে
- UNICEF বলছে, কান্না, পিঠ বেঁকিয়ে ফেলা, পা পেটের দিকে গুটিয়ে নেওয়া বা হাত মুঠো করা আটকে থাকা গ্যাসের লক্ষণ হতে পারে।
- খাওয়ানোর মাঝে বা পরে ঢেকুর তোলান: কাঁধে মাথা রেখে, কোলে বসিয়ে, বা কোলে উপুড় করে শুইয়ে পিঠে আলতো চাপড় বা হাত বুলিয়ে।
- চিত করে শুইয়ে পেটে ঘড়ির কাঁটার দিকে আলতো মালিশ, আর পা সাইকেল চালানোর মতো নাড়ানো আরাম দিতে পারে।
- দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি, সপ্তাহে ৩ দিন, অন্তত এক সপ্তাহ ধরে খুব কাঁদলে তা কলিক হতে পারে; UNICEF বলছে, এটা সাধারণত ছয় মাসের মধ্যে চলে যায়।
- পেট ব্যথার সঙ্গে বমি হলে, বা বাচ্চা খেতে না পারলে, খিঁচুনি হলে, খুব নিস্তেজ হলে, বা ২ মাসের কম বয়সে জ্বর বা দ্রুত শ্বাস হলে এখনই হাসপাতালে যান; দেখুন জরুরি অবস্থা পাতা।
বাচ্চার পেটে গ্যাস (অনেকে যেটা খোঁজেন “bacchar pete gas hole ki korbo” লিখে) আর কলিক নিয়ে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ নেই, বিশেষ করে বাচ্চা যখন অনেকক্ষণ কাঁদে। UNICEF বলছে, খাওয়ার সময় বাচ্চা বাতাস গিলে ফেললে তা পেটে আটকে অস্বস্তি করতে পারে। কীভাবে বুঝবেন, বাড়িতে কী করবেন, আর কোন লক্ষণে দেরি না করে হাসপাতালে যাবেন, তা নিচে দেওয়া হলো।
পেটে গ্যাস আটকে থাকার লক্ষণ
UNICEF অনুযায়ী আটকে থাকা গ্যাসের লক্ষণ হতে পারে:
- কান্না।
- পিঠ বেঁকিয়ে ফেলা।
- পা পেটের দিকে গুটিয়ে নেওয়া।
- হাত মুঠো করে রাখা।
এই লক্ষণগুলোর সঙ্গে বমি হলে তা গ্যাস না-ও হতে পারে; নিচের “কখন এখনই হাসপাতালে” অংশ দেখুন।
ঢেকুর তোলানোর উপায়
UNICEF বলছে, ঢেকুর তোলানো খাওয়ানোর রুটিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; এতে গ্যাসের ব্যথা কমে আর দুধ তুলে ফেলাও কমে। কখন ঢেকুর তোলাবেন, তার কোনো নিয়ম নেই; কোনো বাচ্চার খাওয়ার মাঝে লাগে, কারও পরে। তিনটি উপায়:
- কাঁধে: বাচ্চাকে সোজা করে ধরুন, মাথা আপনার কাঁধে থাকুক; অন্য হাতে পিঠে চাপড় দিন।
- কোলে বসিয়ে: এক হাতে বাচ্চার থুতনি ও বুক ধরে রাখুন; অন্য হাতে পিঠে চাপড় দিন বা হাত বুলিয়ে দিন।
- কোলে উপুড় করে: বাচ্চাকে কোলে উপুড় করে শুইয়ে পিঠে আলতো চাপড় দিন বা হাত বুলিয়ে দিন।
হাতের তালু সমান না রেখে একটু বাঁকিয়ে চাপড় দিলে তা বেশি নরম হয়। ঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর অবস্থান আর মুখে নেওয়ার নিয়ম দেখুন: বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম।
পেটে মালিশ ও পা নাড়ানো
- পেটে মালিশ: UNICEF বলছে, বাচ্চাকে চিত করে শুইয়ে পেটে ঘড়ির কাঁটার দিকে গোল করে আলতো মালিশ অস্বস্তি কমাতে পারে।
- সাইকেল চালানো: বাচ্চার পা সাইকেল চালানোর মতো সামনে-পেছনে নাড়ান।
এসবেও কাজ না হলে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
৬ মাসের কম বয়সে শুধু বুকের দুধ: গ্যাসের জন্যও পানি, পুদিনা বা জোয়ানের পানি, বা অন্য কিছু দেবেন না (প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ)। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না।
কলিক কাকে বলে
UNICEF বলছে, বাচ্চা খুব বেশি কাঁদলে, দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি, সপ্তাহে ৩ দিন, অন্তত এক সপ্তাহ ধরে, তা কলিক হতে পারে।
- কারণ: সঠিক কারণ জানা নেই, তবে অনেক নবজাতকের হয়।
- কখন: বাচ্চার কয়েক সপ্তাহ বয়সে শুরু হতে পারে, আর সাধারণত ছয় মাসের মধ্যে চলে যায়।
- কী করবেন: UNICEF বলছে, অনেক সময় বাচ্চাকে শান্ত করার চেষ্টা ছাড়া খুব বেশি কিছু করার থাকে না। বাচ্চা কেন কাঁদে আর কীভাবে শান্ত করবেন: বাচ্চার কান্নার কারণ।
নিজের যত্ন: সব চেষ্টার পরও বাচ্চা কাঁদতে থাকলে আলতো করে কোলে রাখুন, বা অন্য কারও সাহায্য নিন। খুব অস্থির লাগলে বাচ্চাকে নিরাপদ জায়গায় শুইয়ে ৫–১০ মিনিটের বিরতি নিন, তারপর আবার চেষ্টা করুন। UNICEF বলছে, যত রাগই হোক, বাচ্চাকে কখনো ঝাঁকাবেন না, মারবেন না বা চিৎকার করবেন না। বাচ্চা খুব বেশি কাঁদতেই থাকলে, চিন্তা হলে বা সামলাতে কষ্ট হলে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন, বা স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করুন।
কখন এখনই হাসপাতালে
পেট ব্যথার সঙ্গে বমি: WHO-র শিশু হাসপাতাল নির্দেশিকা বলছে, ২ বছরের কম বয়সী বাচ্চার অন্ত্রে প্যাঁচ লাগার (ইন্টাসাসেপশন) মতো সমস্যায় পেটে মোচড়ানো ব্যথার সঙ্গে বমি হয়; বাচ্চা ব্যথায় কাঁদে, কুঁকড়ে যায় আর পা গুটিয়ে নেয়। পরে পায়খানায় লাল জেলির মতো রক্ত আসতে পারে। এমন হলে এখনই হাসপাতালে নিন। বিস্তারিত: বাচ্চার পায়খানা না হলে করণীয়।
WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী নবজাতকের (২ মাসের কম) নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ থাকলে এখনই হাসপাতালে নিন:
- বুকের দুধ বা খাবার ঠিকমতো খেতে পারছে না।
- খিঁচুনি হচ্ছে।
- খুব দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে (মিনিটে ৬০ বার বা তার বেশি)।
- শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ জোরে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।
- নিজে থেকে নড়াচড়া করছে না, শুধু নাড়া দিলে নড়ছে।
- জ্বর (৩৭.৫° সেলসিয়াস বা তার বেশি) বা শরীর খুব ঠাণ্ডা (৩৫.৫° সেলসিয়াসের কম)।
- জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় নবজাতক হলুদ হয়ে যাচ্ছে, অথবা যেকোনো সময় হাতের তালু ও পায়ের তলা হলুদ হয়ে গেছে।
২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সে IMCI অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটি সাধারণ বিপদ চিহ্ন থাকলে এখনই হাসপাতালে নিন:
- শিশু কিছু পান করতে পারছে না, বা বুকের দুধ টানতে পারছে না।
- যা খায় বা পান করে, সব বমি করে ফেলে দিচ্ছে।
- খিঁচুনি হচ্ছে, বা হয়েছে।
- শিশু খুব নিস্তেজ, বা অচেতন।
আরও বিপদ চিহ্ন, জরুরি নম্বর আর পথে কী করবেন: জরুরি অবস্থা।
সাধারণ প্রশ্ন
বাচ্চার পেটে গ্যাস হলে কী করব?
UNICEF বলছে, খাওয়ানোর মাঝে বা পরে ঢেকুর তোলান। বাচ্চাকে চিত করে শুইয়ে পেটে ঘড়ির কাঁটার দিকে আলতো মালিশ করুন, আর পা সাইকেল চালানোর মতো সামনে-পেছনে নাড়ান। এতেও না কমলে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাচ্চার কলিক কী, কতদিন থাকে?
UNICEF বলছে, বাচ্চা দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি, সপ্তাহে ৩ দিন, অন্তত এক সপ্তাহ ধরে খুব কাঁদলে তা কলিক হতে পারে। এর সঠিক কারণ জানা নেই। কয়েক সপ্তাহ বয়সে শুরু হতে পারে, আর সাধারণত ছয় মাসের মধ্যে চলে যায়।
বাচ্চাকে কীভাবে ঢেকুর তোলাব?
UNICEF তিনটি উপায় বলে: সোজা করে কাঁধে মাথা রেখে পিঠে চাপড়; কোলে বসিয়ে এক হাতে থুতনি ও বুক ধরে অন্য হাতে পিঠে চাপড় বা হাত বুলিয়ে; অথবা কোলে উপুড় করে শুইয়ে পিঠে আলতো চাপড় বা হাত বুলিয়ে। হাত একটু বাঁকিয়ে চাপড় দিলে তা নরম হয়।
গ্যাসের জন্য বাচ্চাকে কি পানি বা জোয়ানের পানি দেওয়া যাবে?
৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাকে শুধু বুকের দুধ দিন; পানি, পুদিনা বা জোয়ানের পানি, বা অন্য কিছু নয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না।
Bacchar pete gas hole ki korbo?
খাওয়ানোর মাঝে বা পরে ঢেকুর তোলান, পেটে ঘড়ির কাঁটার দিকে আলতো মালিশ করুন, আর পা সাইকেল চালানোর মতো নাড়ান। বমির সঙ্গে পেট ব্যথা বা কোনো বিপদ চিহ্ন দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে নিন।
এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা
সূত্র
- UNICEF Parenting – Why do babies cry? — UNICEF
- UNICEF Parenting – How to burp your baby — UNICEF
- UNICEF Parenting – How to soothe your baby — UNICEF
- WHO – Integrated Management of Childhood Illness (IMCI) chart booklet (March 2014) — WHO
- WHO – WHO recommendations on maternal and newborn care for a positive postnatal experience (2022) — WHO
- WHO – Pocket book of hospital care for children (2nd edition, 2013) — WHO
- DGHS – স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ — DGHS
কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান