৭ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা: দিনে কতবার, কতটুকু

৭ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা ও ৮ মাসের রুটিন (7 month baby food chart): দিনে কতবার, কতটুকু, কতটা ঘন আর কোন দেশি খাবার। WHO ও UNICEF অনুযায়ী।

এক নজরে

  • ৭ ও ৮ মাসে বাচ্চা যতবার চায় বুকের দুধ দিন; পাশাপাশি দিনে ২–৩ বার ঘন খাবার, আর খিদে পেলে মাঝে ১–২ বার নাশতা।
  • প্রতিবার আধা কাপ (২৫০ মিলিলিটারের কাপের অর্ধেক) পর্যন্ত ঘন জাউ বা ভালো করে চটকানো খাবার।
  • প্রতিদিন ডিম, মাছ বা মাংস, আর ফল ও সবজি দিন; এক বছরের আগে মধু নয়, চিনি-লবণ বেশি দেওয়া খাবারও নয়।
  • খিদে আর পেট ভরার ইঙ্গিত বুঝে খাওয়ান; জোর করবেন না।
  • বাচ্চা কিছু পান করতে বা বুকের দুধ টানতে না পারলে, সব বমি করলে, খিঁচুনি হলে, খুব নিস্তেজ বা অচেতন হলে, বা শান্ত অবস্থায়ও স্ট্রাইডর হলে এখনই হাসপাতালে যান।

৭ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা (অনেকে যেটা খোঁজেন “7 maser bachar khabar talika” লিখে) বানানোর সময় মনে রাখুন, এই বয়সেও বুকের দুধই বাচ্চার প্রধান খাবার, আর তার পাশাপাশি দিনে কয়েকবার ঘন, পুষ্টিকর খাবার লাগে। ৭ ও ৮ মাসে খাবারের পরিমাণ আর ধরন একটু একটু করে বাড়ানোর সময়। নিচের তালিকা ও রুটিন WHO ও UNICEF-এর পরামর্শ থেকে সাজানো। খাবার একদম শুরু করার নিয়ম দেখুন: ৬ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা: প্রথম মাসের চার্ট।

৭ মাসে (৬–৮ মাস)WHO/UNICEF যা বলে
বুকের দুধবাচ্চা যতবার চায়, দিন-রাত
দিনে কতবার২–৩ বার খাবার; খিদে পেলে মাঝে ১–২ বার নাশতা
কেমন খাবারঘন জাউ বা ভালো করে চটকানো নরম খাবার, চামচ থেকে গড়িয়ে পড়ে না এমন ঘন
প্রতিবার কতটুকু২–৩ টেবিল চামচ দিয়ে শুরু, ধীরে ধীরে আধা কাপ পর্যন্ত (১ কাপ = ২৫০ মিলি)

সূত্র: WHO IMCI ও UNICEF। বুকের দুধ না খেলে দিনে ৪ বার আধা কাপ খাবার ও একটি নাশতা (UNICEF)।

৭–৮ মাসে কী বদলায়

WHO বলছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পরিমাণ, ঘনত্ব আর বৈচিত্র্য ধীরে ধীরে বাড়াতে হয়। WHO-র শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশিকা (IMCI) ৬ থেকে ৯ মাস বয়সের জন্য বলছে:

  • বুকের দুধ: বাচ্চা যতবার চায়, দিন-রাত।
  • কেমন খাবার: ঘন জাউ বা ভালো করে চটকানো খাবার, তাতে প্রাণিজ খাবার আর ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ ফল ও সবজি।
  • কতটুকু: ২–৩ টেবিল চামচ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে আধা কাপ পর্যন্ত (এক কাপ = ২৫০ মিলিলিটার)।
  • কতবার: দিনে ২–৩ বার খাবার, আর খিদে পেলে মাঝে ১–২ বার নাশতা।

UNICEF মনে করিয়ে দেয়, জাউ খুব পাতলা হলে তাতে পুষ্টি কম থাকে। এমন ঘন করে রাঁধুন, যাতে চামচ থেকে গড়িয়ে না পড়ে। খাবার দিন বুকের দুধ খাওয়ানোর পরে, বা দুই বেলা দুধের মাঝে, যাতে বাচ্চা আগের মতোই বুকের দুধ খায়।

৭ ও ৮ মাসের দৈনিক রুটিন (নমুনা)

নিচের রুটিনটি WHO, IMCI ও UNICEF-এর বেলা আর পরিমাণের হিসাব দিয়ে বানানো একটি নমুনা। সময় নিজের বাড়ির মতো করে নিন, আর পরিমাণ বাচ্চার খিদে বুঝে ঠিক করুন।

কখনকী দেবেনকতটুকু
সকালেবুকের দুধ, তারপর ঘন খিচুড়ি বা জাউ, সঙ্গে চটকানো ডিমআধা কাপ পর্যন্ত
দুপুরের আগে (খিদে পেলে)চটকানো পাকা কলা বা পেঁপেনাশতা
দুপুরেবুকের দুধ, তারপর চটকানো ভাত, ঘন ডাল, সবজি আর মাছআধা কাপ পর্যন্ত
বিকেলে বা সন্ধ্যায়বুকের দুধ; চাইলে আরেক বেলা ঘন খাবারআধা কাপ পর্যন্ত
সারা দিন-রাতবুকের দুধবাচ্চা যতবার চায়

বাচ্চা বুকের দুধ না খেলে তাকে আরও বেশিবার খাওয়াতে হয়। UNICEF অনুযায়ী ৬–৮ মাসে তখন দিনে ৪ বার আধা কাপ নরম খাবার, সঙ্গে একটি নাশতা।

৯ মাসের দিকে UNICEF বলছে, দিনে ৩–৪ বার আধা কাপ খাবার আর একটি নাশতা দেওয়া যায়, আর খাবার চটকানোর বদলে ছোট ছোট নরম টুকরো করে দেওয়া যায়। অনেক বাচ্চা তখন হাতে ধরে নিজে খেতে শুরু করে।

৭ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা: কোন খাবার দেবেন

WHO-র ২০২৩ সালের নির্দেশিকা আর IMCI অনুযায়ী প্রতিদিনের খাবারে থাকুক:

  • তেল দেওয়া ঘন শস্যের খাবার: যেমন ঘন জাউ, খিচুড়ি বা চটকানো ভাত, সঙ্গে অল্প তেল।
  • প্রাণিজ খাবার প্রতিদিন: ডিম, মাছ বা মাংস।
  • ডাল, বাদাম ও বীজ প্রায়ই: বিশেষ করে মাছ-মাংস-ডিম কম পেলে। বাদাম ও বীজ এমনভাবে দিন, যাতে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
  • ফল ও সবজি প্রতিদিন: বিশেষ করে ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ, যেমন মিষ্টি কুমড়া, গাজর, পাকা পেঁপে, আম, গাঢ় সবুজ শাক।

যা দেবেন না

  • মধু: এক বছর বয়সের আগে নয়। WHO সতর্ক করেছে, মধু থেকে শিশুর বোটুলিজম নামে মারাত্মক অসুখ হতে পারে; UNICEF-ও ১২ মাসের আগে মধু দিতে মানা করে।
  • চিনি, লবণ বেশি দেওয়া খাবার: WHO-র নির্দেশিকা বলছে, এমন খাবার খাওয়ানো উচিত নয়।
  • মিষ্টি পানীয় ও কোমল পানীয়: দেবেন না। ফলের রস (জুস) দিলেও সীমিত রাখুন।
  • জাঙ্ক ফুড: UNICEF এসব এড়িয়ে চলতে বলে।

খেতে না চাইলে

  • খিদে ও পেট ভরার ইঙ্গিত বুঝুন: পেট ভরার লক্ষণ দেখলে থামুন। জোর করে খাওয়াবেন না।
  • নতুন খাবার ফেলে দিলে: UNICEF বলছে, জোর না করে কয়েক দিন পর আবার চেষ্টা করুন, বা পছন্দের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিন, বা ওপরে একটু বুকের দুধ দিয়ে দিন।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: খাবার বানানোর আগে আর প্রতিবার খাওয়ানোর আগে নিজের ও বাচ্চার হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • ওজন না বাড়লে: বাচ্চা ঠিকমতো খেতে না চাইলে, ওজন না বাড়লে বা খুব রোগা দেখালে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারকে দেখান। খাওয়ানোর কোনো সমস্যা পাওয়া গেলে স্বাস্থ্যকর্মী যেদিন বলেন, সেদিন আবার দেখান; IMCI-র খাওয়ানোর সমস্যার ফলো-আপ অংশে ৭ দিন পর আবার দেখার কথা আছে।

অসুখের সময় খাওয়ানো নিয়ে পড়ুন: বাচ্চার পাতলা পায়খানা হলে করণীয়: ওআরএস ও জিংক।

কখন দেরি না করে হাসপাতালে যাবেন

WHO-র শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশিকা (IMCI) অনুযায়ী ২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী বাচ্চার নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখলে এখনই হাসপাতালে নিন:

  • কিছু পান করতে বা বুকের দুধ টানতে পারছে না।
  • যা খায় সব বমি করে ফেলছে।
  • খিঁচুনি হচ্ছে বা হয়েছে।
  • খুব নিস্তেজ বা অচেতন হয়ে পড়েছে।

কাশি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বাচ্চা শান্ত অবস্থায়ও শ্বাস নেওয়ার সময় গলা থেকে কর্কশ শব্দ (স্ট্রাইডর) করলে IMCI এটাকেও জরুরি লক্ষণ ধরে; তখনও এখনই হাসপাতালে যান।

কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে বাচ্চা শান্ত থাকার সময় এক মিনিট ধরে শ্বাস গুনুন। IMCI অনুযায়ী ২ মাস থেকে ১২ মাসের কম বয়সে মিনিটে ৫০ বা বেশি হলে দ্রুত শ্বাস। দ্রুত শ্বাস বা বুকের নিচের অংশ ভেতরে ঢুকে যাওয়া দেখলে সেদিনই ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। আরও বিপদ চিহ্ন দেখুন জরুরি অবস্থা পাতায়।

আরও তথ্য: ৬–১২ মাসের বাচ্চার আরও লেখা।

সাধারণ প্রশ্ন

৭ মাসের বাচ্চাকে দিনে কতবার খাওয়াব?

WHO অনুযায়ী ৬ থেকে ৮ মাসে দিনে ২–৩ বার খাবার, আর দরকার হলে মাঝে ১–২ বার নাশতা। এর বাইরে বাচ্চা যতবার চায়, বুকের দুধ দিন।

সাত মাসের বাচ্চার খাবার কতটা ঘন হবে?

ঘন জাউ বা ভালো করে চটকানো খাবার দিন। UNICEF মনে করিয়ে দেয়, জাউ খুব পাতলা হলে তাতে পুষ্টি কম থাকে; এমন ঘন করে রাঁধুন, যাতে চামচ থেকে গড়িয়ে না পড়ে।

৭ মাস বয়সী বাচ্চাকে কি মধু দেওয়া যাবে?

না। এক বছর বয়সের আগে মধু নয়। WHO সতর্ক করেছে, মধু থেকে শিশুর বোটুলিজম নামে মারাত্মক অসুখ হতে পারে; UNICEF-ও ১২ মাসের আগে মধু দিতে মানা করে।

৮ মাসের বাচ্চা একবারে কতটুকু খাবে?

WHO-র IMCI নির্দেশিকা বলছে, শুরুতে ২–৩ টেবিল চামচ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে আধা কাপ (২৫০ মিলিলিটারের কাপের অর্ধেক) পর্যন্ত বাড়ান। প্রতিটি বাচ্চা আলাদা, তাই খিদে বুঝে খাওয়ান।

৭ মাসের বাচ্চাকে কি খিচুড়ি খাওয়ানো যাবে?

হ্যাঁ। ঘন করে রান্না করা চাল-ডালের খিচুড়ি ভালো করে চটকে দিতে পারেন, সঙ্গে সবজি, অল্প তেল আর ডিম বা মাছ মিশিয়ে। IMCI বলছে, ভালো খাবারে থাকবে তেল দেওয়া ঘন শস্যের খাবার, মাছ-মাংস-ডিম বা ডাল, আর ফল ও সবজি।

৮ মাসের বাচ্চাকে কি ডিম বা মাছ দেওয়া যাবে?

হ্যাঁ। WHO বলছে, ৬ মাস থেকেই প্রতিদিন ডিম, মাছ বা মাংসের মতো প্রাণিজ খাবার দরকার। নরম করে চটকে দিন।

8 maser bachar khabar routine ki?

এই বয়সেও বুকের দুধই বাচ্চার প্রধান খাবার, আর তার পাশাপাশি দিনে কয়েকবার ঘন, পুষ্টিকর খাবার লাগে। খাবারের পরিমাণ, ঘনত্ব আর ধরন ধীরে ধীরে বাড়ান। ৮ মাসের দৈনিক রুটিন এই লেখায় WHO ও UNICEF-এর পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া আছে।

এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা

সূত্র

  1. WHO – Integrated Management of Childhood Illness (IMCI) chart booklet (March 2014) — WHO
  2. UNICEF Parenting – Feeding your baby: 6–12 months — UNICEF
  3. WHO – Guideline for complementary feeding of infants and young children 6–23 months of age (2023) — WHO
  4. WHO – Infant and young child feeding (fact sheet) — WHO
  5. WHO – Botulism (fact sheet) — WHO

কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান