প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন করবেন? গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন করলে কাজ করে, নেগেটিভ এলে কবে আবার করবেন, গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ, আর পজিটিভ হলে প্রথম চেকআপ কবে। WHO ও UNICEF অনুযায়ী।

এক নজরে

  • UNICEF বলছে, যাঁদের মাসিক নিয়মিত, তাঁদের গর্ভধারণের সবচেয়ে প্রথম লক্ষণ হলো মাসিক না হওয়া।
  • WHO-র হ্যান্ডবুক বলছে, যেদিন মাসিক হওয়ার কথা, সেদিনের আগে প্রেগন্যান্সি টেস্ট সাধারণত কাজ করে না; আগে করা অর্থহীন।
  • টেস্ট নেগেটিভ, কিন্তু মাসিক হয়নি: যে তারিখে মাসিক হওয়ার কথা ছিল, তার অন্তত ১০ দিন পরে আবার পরীক্ষা করুন।
  • টেস্ট পজিটিভ হলে গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে, যত আগে সম্ভব, প্রথম চেকআপ করান।
  • যোনিপথে রক্তপাত, তীব্র পেট কামড়ানো ব্যথা, ৩৮° সেলসিয়াসের বেশি জ্বর বা খুব বেশি বমি হলে স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখান; গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন পাতাও দেখুন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন করবেন (অনেকে যেটা খোঁজেন “pregnancy test kokhon korbo” লিখে), টেস্ট নেগেটিভ এলে কী করবেন, আর গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণগুলো কী, তা এই লেখায় দেওয়া হলো। তথ্যগুলো WHO-র পরিবার পরিকল্পনা হ্যান্ডবুক (২০২২), WHO-র গর্ভকালীন সেবার নির্দেশিকা (২০১৬) আর UNICEF-এর গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের গাইড থেকে নেওয়া।

গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ

UNICEF বলছে, যাঁদের মাসিক নিয়মিত, তাঁদের গর্ভধারণের সবচেয়ে প্রথম লক্ষণ হলো মাসিক না হওয়া।

শুরুর দিকে UNICEF-এর তালিকার কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে:

  • স্তনে ব্যথা বা ছুঁলে ব্যথা।
  • মেজাজের হঠাৎ বড় পরিবর্তন।
  • বমি ভাব বা বমি (মর্নিং সিকনেস)।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব।
  • ওজন বাড়া বা কমা।
  • খুব ক্লান্তি।
  • মাথাব্যথা।
  • বুক জ্বালা।
  • পায়ে টান ধরা।
  • কোমর ও তলপেটে ব্যথা।
  • কিছু খাবারের প্রতি খুব ঝোঁক, বা কিছু খাবারে নতুন অরুচি।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য।

এসব লক্ষণ সবার হয় না, আর শুধু লক্ষণ দেখে গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়া যায় না। নিশ্চিত হতে পরীক্ষা করুন।

হালকা রক্ত যাওয়া: UNICEF বলছে, কখনো কখনো হালকা মাসিকের মতো বা ফোঁটা ফোঁটা রক্ত (ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং) হতে পারে, আর তা স্বাভাবিক। তবে গর্ভাবস্থায় যেকোনো রক্তপাত হলে স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখান।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন করবেন

WHO-র পরিবার পরিকল্পনা হ্যান্ডবুক বলছে:

  • মাসিক না হওয়ার আগে নয়: যেদিন মাসিক হওয়ার কথা, সেই প্রথম দিনের আগে প্রেগন্যান্সি টেস্ট সাধারণত কাজ করে না। আগে পরীক্ষা করা অর্থহীন আর অপচয়।
  • মাসিক দেরি হলে বা না হলে: তখন টেস্ট করুন।
  • টেস্ট নেগেটিভ, কিন্তু মাসিক হয়নি: যে তারিখে মাসিক হওয়ার কথা ছিল, তার অন্তত ১০ দিন পরে আবার পরীক্ষা করুন। হ্যান্ডবুক এই নিয়ম দিয়েছে কম সংবেদনশীল টেস্টের জন্য, আর বলেছে, টেস্টের প্যাকেটে সংবেদনশীলতা লেখা না থাকলে সেটিকে কম সংবেদনশীল ধরে নিতে হবে।

আবার নেগেটিভ এলেও মাসিক না হলে, বা কোনো চিন্তা থাকলে, স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন, বা স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করুন।

টেস্ট পজিটিভ হলে: প্রথম চেকআপ

UNICEF বলছে, গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে, যত আগে সম্ভব, অন্তত একবার স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে যান। WHO-র গর্ভকালীন সেবার নির্দেশিকাও প্রথম চেকআপ ১২ সপ্তাহের মধ্যে রাখে, আর পুরো গর্ভাবস্থায় অন্তত ৮ বার চেকআপের সুপারিশ করে। কোন সপ্তাহে কোন চেকআপ, দেখুন: গর্ভাবস্থায় কত সপ্তাহে কত মাস। এই সময়ে কী খাবেন: গর্ভাবস্থায় খাবার তালিকা।

কখন স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখাবেন

UNICEF বলছে, গর্ভাবস্থার শুরুতে নিচের কোনোটি হলে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন:

  • তীব্র পেট কামড়ানো ব্যথা।
  • ৩৮° সেলসিয়াসের বেশি জ্বর।
  • যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব।
  • প্রস্রাবে ব্যথা।
  • যোনিপথে রক্তপাত।
  • খুব বেশি বমি।

কোন লক্ষণে দিন হোক বা রাত এখনই হাসপাতালে যাবেন, তার পুরো তালিকা দেখুন: গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন। প্রশ্ন থাকলে স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন করলে সঠিক ফল পাওয়া যায়?

WHO-র পরিবার পরিকল্পনা হ্যান্ডবুক (২০২২) বলছে, যেদিন মাসিক হওয়ার কথা, সেই প্রথম দিনের আগে প্রেগন্যান্সি টেস্ট সাধারণত কাজ করে না; আগে করা অর্থহীন আর অপচয়। তাই মাসিক না হলে তারপর পরীক্ষা করুন।

টেস্ট নেগেটিভ কিন্তু মাসিক হয়নি, কী করব?

WHO-র হ্যান্ডবুক অনুযায়ী যে তারিখে মাসিক হওয়ার কথা ছিল, তার অন্তত ১০ দিন পরে আবার পরীক্ষা করুন। টেস্টের প্যাকেটে কত সংবেদনশীল তা লেখা না থাকলে এই নিয়মই মেনে চলুন। চিন্তা থাকলে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।

গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ কী?

UNICEF বলছে, যাঁদের মাসিক নিয়মিত, তাঁদের সবচেয়ে প্রথম লক্ষণ মাসিক না হওয়া। এ ছাড়া ক্লান্তি, বমি ভাব, ঘন ঘন প্রস্রাব, স্তনে ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। তবে এসব লক্ষণ দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না; পরীক্ষা করুন।

গর্ভাবস্থার শুরুতে রক্ত গেলে কী করব?

UNICEF বলছে, কখনো কখনো হালকা মাসিকের মতো বা ফোঁটা ফোঁটা রক্ত (ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং) হতে পারে, আর তা স্বাভাবিক। তবে গর্ভাবস্থায় যেকোনো রক্তপাত হলে স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখান।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ হলে কী করব?

গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে, যত আগে সম্ভব, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রথম চেকআপ করান। WHO গর্ভাবস্থায় অন্তত ৮ বার চেকআপের সুপারিশ করে; সময়সূচি দেখুন আমাদের সপ্তাহ-মাসের লেখায়।

Pregnancy test kokhon korbo?

যেদিন মাসিক হওয়ার কথা, সেদিন পেরিয়ে গেলে পরীক্ষা করুন; তার আগে টেস্ট সাধারণত কাজ করে না। নেগেটিভ এলে আর মাসিক না হলে, মাসিকের নির্ধারিত তারিখের অন্তত ১০ দিন পরে আবার করুন।

এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা

সূত্র

  1. UNICEF Parenting – Your first trimester guide — UNICEF
  2. WHO & Johns Hopkins – Family Planning: A Global Handbook for Providers (2022) — WHO
  3. WHO – WHO recommendations on antenatal care for a positive pregnancy experience (2016) — WHO
  4. DGHS – স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ — DGHS

কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান