গর্ভাবস্থায় খাবার তালিকা: কী খাবেন, কী খাবেন না

গর্ভাবস্থায় খাবার তালিকা: বেশি ও নানা রকম পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আয়রন-ফলিক অ্যাসিড, আর কী কী খাওয়া যাবে না। WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী।

এক নজরে

  • WHO বলছে, গর্ভাবস্থায় বেশি পরিমাণে আর নানা রকম স্বাস্থ্যকর খাবার খান: সবুজ ও কমলা রঙের সবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডাল ও বিচি, বাদাম, গোটা শস্য আর ফল।
  • স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দেওয়া আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট স্বাস্থ্যকর্মী যেভাবে বলেন সেভাবে খান; অন্য কোনো ওষুধ শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
  • যা নয়: মদ, ধূমপান, তামাক, অন্যের ধোঁয়া আর মাদক। চা-কফি খুব বেশি খেলে কমিয়ে দিন।
  • পুষ্টিকর খাবার নিয়ে প্রচলিত নিষেধ মানবেন না; WHO বলছে, পরিবার যেন মাকে যথেষ্ট খেতে আর ভারী কাজ এড়াতে সাহায্য করে।
  • যোনিপথে রক্তপাত, খিঁচুনি, ঝাপসা দেখার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, পেটে তীব্র ব্যথা, বা দ্রুত শ্বাস হলে দিন হোক বা রাত এখনই হাসপাতালে যান; দেখুন গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন পাতা।

গর্ভাবস্থায় খাবার তালিকা নিয়ে (অনেকে যেটা খোঁজেন “pregnancy food chart bangla” লিখে) প্রশ্নের শেষ নেই: কী খাবেন, আর কী কী খাওয়া যাবে না। এই লেখা WHO-র গর্ভকালীন সেবার নির্দেশিকা (২০১৬) আর গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী যত্নের নির্দেশিকা (২০১৫) থেকে সাজানো। WHO বলছে, গর্ভাবস্থায় মা আর গর্ভের শিশু দুজনের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট শক্তি, প্রোটিন, ভিটামিন আর খনিজসহ স্বাস্থ্যকর খাবার দরকার।

কী খাবেন

WHO-র নির্দেশিকা বলছে, আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে আর নানা রকম স্বাস্থ্যকর খাবার খান, যাতে নিজেকে সুস্থ আর শক্তিশালী লাগে:

  • সবজি: বিশেষ করে সবুজ ও কমলা রঙের।
  • মাছ ও মাংস।
  • দুধ ও পনির।
  • ডাল, বিচি, বাদাম ও বীজ।
  • শস্য: বিশেষ করে গোটা শস্য।
  • তেল।
  • ফল।

WHO বলছে, গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবার আর শরীর সচল রাখা নিয়ে পরামর্শ মাকে সুস্থ থাকতে আর অতিরিক্ত ওজন বাড়া ঠেকাতে সাহায্য করে। যেসব এলাকায় অপুষ্টি বেশি, সেখানে WHO প্রতিদিনের খাবারে শক্তি আর প্রোটিন বাড়ানোর পরামর্শ দিতে বলে, যাতে কম ওজনের শিশুর ঝুঁকি কমে।

আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড

WHO গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন মুখে খাওয়ার আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড সুপারিশ করে, মায়ের রক্তস্বল্পতা, প্রসবের পরের সংক্রমণ, কম ওজনের শিশু আর সময়ের আগে জন্ম ঠেকাতে। WHO বলছে, ফলিক অ্যাসিড যত আগে সম্ভব শুরু করা ভালো, সম্ভব হলে গর্ভধারণের আগেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ট্যাবলেট নিন আর স্বাস্থ্যকর্মী যেভাবে বলেন সেভাবে খান। আমরা কোনো মাত্রা লিখি না।

কী কী খাওয়া যাবে না

WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী গর্ভাবস্থায়:

  • মদ নয়।
  • ধূমপান ও তামাক নয়; অন্যের সিগারেটের ধোঁয়াও এড়িয়ে চলুন।
  • মাদক নয়।
  • চা-কফি: দিনে খুব বেশি ক্যাফেইন খেলে WHO কমাতে বলে, গর্ভপাত আর কম ওজনের শিশুর ঝুঁকি কমাতে।
  • ওষুধ: স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ নয়।

নির্দিষ্ট খাবার বা ফলের নিষেধ: WHO-র এই নির্দেশিকাগুলোতে নিষিদ্ধ খাবার বা ফলের কোনো তালিকা নেই, তাই আমরাও দিচ্ছি না। বরং WHO স্বাস্থ্যকর্মীদের বলছে, পুষ্টিকর খাবার নিয়ে প্রচলিত নিষেধ খুঁজে বের করে মাকে সেগুলো না মানার পরামর্শ দিতে।

পরিবারের ভূমিকা

WHO বলছে, স্বামী, শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই যেন নিশ্চিত করেন মা যথেষ্ট খাচ্ছেন আর ভারী কাজ এড়াচ্ছেন। খুব রোগা বা কম বয়সী মায়েদের খাবারের দিকে বেশি নজর দরকার। বিশ্রাম নিন আর ভারী জিনিস তুলবেন না।

বমি ভাব, বুক জ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্য

  • বমি ভাব: WHO বলছে, শুরুর দিকের বমি ভাব কমাতে আদা বা ক্যামোমাইল চেষ্টা করা যায়, নিজের পছন্দ অনুযায়ী।
  • বুক জ্বালা: WHO খাবার ও জীবনযাপন নিয়ে পরামর্শকে প্রথম উপায় হিসেবে সুপারিশ করে; স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য: খাবারে পরিবর্তনে না কমলে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন। নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাবেন না।

নিয়মিত গর্ভকালীন চেকআপের সময়সূচি দেখুন: গর্ভাবস্থায় কত সপ্তাহে কত মাস। প্রশ্ন থাকলে স্বাস্থ্য বাতায়নে ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করুন।

গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন

নিচের যেকোনো একটি হলে দিন হোক বা রাত, অপেক্ষা না করে এখনই হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান:

  • যোনিপথে রক্তপাত।
  • খিঁচুনি।
  • ঝাপসা দেখার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা।
  • জ্বর, আর এত দুর্বল যে বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না।
  • পেটে তীব্র ব্যথা।
  • দ্রুত শ্বাস বা শ্বাসকষ্ট।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান, যদি:

  • জ্বর।
  • পেটে ব্যথা।
  • অসুস্থ বোধ করছেন।
  • আঙুল, মুখ বা পা ফুলে গেছে।

পুরো তালিকা আর প্রসবের লক্ষণ: গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন। জরুরি সাহায্যের জন্য ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা) বা ১৬২৬৩ (স্বাস্থ্য বাতায়ন) নম্বরে ফোন করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

গর্ভাবস্থায় কি কি খাওয়া যাবে না?

WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী মদ, ধূমপান ও তামাক, অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া, আর মাদক এড়িয়ে চলুন। চা-কফি খুব বেশি খেলে কমিয়ে দিন। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না। এর বাইরে নির্দিষ্ট কোনো খাবার নিষেধের তালিকা আমাদের সূত্রে নেই।

গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় কী থাকবে?

WHO বলছে, স্বাস্থ্যকর খাবারে যথেষ্ট শক্তি, প্রোটিন, ভিটামিন আর খনিজ থাকা চাই: সবুজ ও কমলা রঙের সবজি, মাছ, মাংস, দুধ বা পনির, ডাল ও বিচি, বাদাম ও বীজ, গোটা শস্য, তেল আর ফল। আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে খান।

গর্ভাবস্থায় কি কি ফল খাওয়া যাবে না?

WHO-র নির্দেশিকায় নিষিদ্ধ কোনো ফলের তালিকা নেই; বরং ফল স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে আছে। WHO বলছে, পুষ্টিকর খাবার নিয়ে প্রচলিত নিষেধ খুঁজে বের করে তা না মানার পরামর্শ দিতে। কোনো খাবারে সমস্যা হলে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।

গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট কি খেতে হবে?

WHO গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড খাওয়ার সুপারিশ করে, রক্তস্বল্পতা, কম ওজনের শিশু ও সময়ের আগে জন্ম ঠেকাতে। ফলিক অ্যাসিড যত আগে সম্ভব শুরু করা ভালো। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নিন আর স্বাস্থ্যকর্মী যেভাবে বলেন সেভাবে খান; আমরা মাত্রা লিখি না।

গর্ভাবস্থায় বমি ভাব হলে কী খাব?

WHO বলছে, গর্ভাবস্থার শুরুর দিকের বমি ভাব কমাতে আদা বা ক্যামোমাইল চেষ্টা করা যায়, নিজের পছন্দ অনুযায়ী। খুব বেশি বমি হলে বা কিছু খেতে না পারলে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন।

Pregnancy food chart bangla কোথায় পাব?

এই লেখাতেই WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী গর্ভাবস্থার খাবারের তালিকা আছে: বেশি পরিমাণে নানা রকম খাবার, প্রতিদিন সবজি, ফল, মাছ-মাংস বা দুধ, ডাল ও গোটা শস্য, আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আয়রন-ফলিক অ্যাসিড।

এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পূর্ণ সতর্কতা

সূত্র

  1. WHO – WHO recommendations on antenatal care for a positive pregnancy experience (2016) — WHO
  2. WHO – Pregnancy, childbirth, postpartum and newborn care: a guide for essential practice (3rd edition, 2015) — WHO
  3. DGHS – স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ — DGHS

কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো মনে হলে আমাদের জানান: ভুল জানান