প্রসবের পর মায়ের বিপদ চিহ্ন
এই পাতার তালিকা WHO-র গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী যত্নের নির্দেশিকা (২০১৫) থেকে নেওয়া। স্বাভাবিক প্রসব হোক বা সিজার, প্রসবের পর সব মায়ের জন্য এই তালিকা। জরুরি সাহায্যের জন্য ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা) বা ১৬২৬৩ (স্বাস্থ্য বাতায়ন) নম্বরে ফোন করুন।
ফোনে পরামর্শ নিতে গিয়ে হাসপাতালে যেতে দেরি করবেন না। বিপদ চিহ্ন থাকলে আগে রওনা দিন, পথে ফোন করুন।
এখনই সাহায্য নিন
- ৯৯৯ (999) জাতীয় জরুরি সেবাঅ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিসের জন্য। টোল-ফ্রি, ২৪ ঘণ্টা খোলা।
- ১৬২৬৩ (16263) স্বাস্থ্য বাতায়ন (জাতীয় স্বাস্থ্য কল সেন্টার)ডাক্তারের পরামর্শের জন্য। ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার কথা বলেন, যেকোনো মোবাইল বা ল্যান্ডফোন থেকে কল করা যায়।
এখনই হাসপাতালে যান, দিন হোক বা রাত
নিচের যেকোনো একটি হলে দিন হোক বা রাত, অপেক্ষা না করে এখনই হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান:
- যোনিপথে রক্তপাত: প্রসবের পর ২০–৩০ মিনিটে ২–৩টির বেশি প্যাড ভিজে যাচ্ছে, অথবা রক্তপাত কমার বদলে বাড়ছে।
- খিঁচুনি।
- ঝাপসা দেখার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা।
- দ্রুত শ্বাস বা শ্বাসকষ্ট।
- জ্বর, আর এত দুর্বল যে বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না।
- পেটে তীব্র ব্যথা।
- পায়ের পেছনে (কাফ) ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা; শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা।
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান, যদি:
- জ্বর।
- পেটে ব্যথা।
- অসুস্থ বোধ করছেন।
- স্তন ফোলা, লাল বা ব্যথা, বা বোঁটায় ব্যথা।
- প্রস্রাব চুইয়ে পড়ছে, বা প্রস্রাবের সময় ব্যথা।
- যোনিপথ ও মলদ্বারের মাঝের জায়গায় ব্যথা, বা সেখান থেকে পুঁজ বের হচ্ছে।
- যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব।
- খুব বেশি মন খারাপ বা বিষণ্ণতা, অথবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা বা চেষ্টা।
আগে থেকে প্রস্তুত থাকুন
প্রসবের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা মায়ের কাছে সবসময় কাউকে রাখুন, যাতে কোনো পরিবর্তন হলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পাওয়া যায়। বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে কোথায় যাবেন আর কীভাবে যাবেন, তা পরিবারের সঙ্গে আগেই ঠিক করে রাখুন।
সূত্র: WHO – Pregnancy, childbirth, postpartum and newborn care: a guide for essential practice (2015)। গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্নের জন্য দেখুন: গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন। নবজাতক ও শিশুর বিপদ চিহ্নের জন্য দেখুন: জরুরি অবস্থা।
এই পাতার লেখা এখনও কোনো চিকিৎসক বা নার্স পর্যালোচনা করেননি, আর এটি ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শের বিকল্প নয়। বিস্তারিত: চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কতা।